[Bangla Short Story] বেদিশা পাগলি

[Bangla Short Story] বেদিশা পাগলি

bangla short story
bangla short story





বিকাল ৩টা ছুই ছুই। কাজ শেষে এফবিতে ডুকলাম। উদ্দেশ্য নটিফেকশন ও ইনবক্স চ্যাক। ইনবক্সে একটি টেক্সের উপর চোখ আটকে গেলো। কে জানি নিউ একটি চ্যাটিং গ্রুপ খুলেছে? আমাকেও এড দিয়েছে। গ্রুপে ডুকলাম, অনেকজন একসাথে কথা বলছে। আমি কথা বলছি না, শুধু তাদের কথাগুলো পড়ছি। হঠাত দেখলাম একটি মেয়ে খুব উলটা পালটা কথা বলছে। আমার তো মিজাজ হট, দিলাম টেক্সট, কিছুক্ষণ কথা বললাম তার সাথে। এরপর মাঝে মাঝে কথা বলতাম গ্রুপে। এই-ই কেল্লা ফতেহ!
১০/১২দিন পর এফবিতে ডুকে দেখি একটি অচেনা মেয়ের টেক্সট। নাম দেওয়া আরিশা রহমানলিখেছে,
"কী হলো? গ্রুপে কথা বলছেন না যে?"
= আমার ইচ্ছে করে না তাই!
-  ইচ্ছে করবে না কেনো? শুনি!
= হায় রে বাব্বাহ! এতো কথা বলছেন কেন? আপনার সমস্যা কোথায়?
- সমস্যা আমার না, সমস্যা আপনার।
= এই, কী বলছেন? গাঞ্জা বেশী খাইছেন না কি?
- নাহ, অল্পই খেয়েছি, আপনি খাবেন?
= ও আল্লাহ! কি কন? পাবনায় যেতে হবে না কি?
- হুম, যেতে তো চাচ্ছি। আপনি যাবেন সাথে?
= হালা মরছে রে! কি আবুল-তাবুল বলছেন? মাথার নাট এক্কেবারে গেছে রে....!
- নাহ, সবটুকু নষ্ট হয়নি, কিছুটা এখনো ভালো!
= এই মেয়ে! আমি পাগল না। আপনার পাগলামী অন্য কোথাও করেন।
- ওই, মেন্টাল, আমি পাগলি হলে তুমি আমার পাগল হবে।
ওরে আল্লাহ! কী প্যারায় পড়লাম, আমাকেই পাগল বানিয়ে ছাড়বে মেয়েটা। অলরেডি পাগল ডেকে ফেলছে। কি মহা মুসিবতে মাবুদ রক্ষা কর।
= আপনার এত্ত বড় স্পর্ধা, আমাকে মেন্টাল বললেন?
- জি, আমার স্পর্দা খুব বেশী।
= শোনুন বেদিশা মেন্টাল, আপনার সাথে পাগলামী করার সময় আমার নেই। সো ব্লক...........
মেয়েটিকে ব্লক মেরে কাজে মন দিলাম। ৫/৬ দিন শান্তিতে কাটল। কোন পাগলে বিরক্ত করেনি। ৭ম দিন আরেকটি মেসেজ। “বেদিশা পাগলি” নামের আইডি থেকে।
-তোমার নাম্বারটা দাওতো?
=কে আপনি আফা?
-
ওই আমি তোমার কোন জন্মের আপা?
=জানিনা তো!
-
নাম্বার দাও
=কেন?
-
আমি চাইছি তাই!
=আপনি কে?
-
পরে বুঝতে পারবা
=আমি এখুনি বুঝতে চাই
-
এখন বুঝতে পারবা না।
=যখন বুঝতে পারবো তখন নাম্বার দিবো
-
তোমার জিএফ আছে.?
=কিহহ কে? আকাশ?
-
কিহহ তুমি সমকামী নাকি
=ওই don't cross your limit
-
কেন, তুমিই তো বললা আপনার গার্লফ্রেন্ডের নাম আকাশ
=না, আমার গুড ফ্রেন্ডের নাম আকাশ
-
ওহহহহহ
=হুমমম
-
তোমাকে দেখে যতটা ভদ্র মনে হয়েছিল এখন দেখছি তুমি ততটাই পাজি
-
আপনি আমাকে দেখেছেন?
-
হুমম
-
আপনি কে?
-
তূমি তো নাম্বার দিলা না, কিন্তু আমি পেয়ে যাবো
-
কিভাবে পাবেন শুনি?
-
বলবোনা
=আপনার নাম কি?
-
দুর্জয়া
=বাহহ আমার নামের সাথে মিলিয়ে বলা শুরু করেছেন দেখছি
-
সত্যি আমি দুর্জয়া, তাই এতদিন পর দুর্জয়কে পেলাম
=আপনার মাথার তার ছেড়া নাকি?
-
হতেও পারে বাট সেটা তোমার জন্য
=খাইছে রে.... আমি যদি বলি আমি অন্য কাউকে লাভ করি তাহলে কি হবে?
-
আমি জানি, তুমি খুব ভালো তুমি আমাকে ছাড়া আর কাউকে লাভ করতেও পারোনা
=এটা বলার কি আছে এটা সবাই জানে
-
কি জানে
=মৌলভীবাজারের ছেলেরা খুব ভালো, এটা সবাই জানে
-
হুমম, আর পাবনার মেয়েরাও অনেক কিউট
=কিহহহ, আপনি পাবনা.?
-
হ্যা কেনো?
=তাই তো বলি এরকম তারছেড়া টাইপের কথা বলতেছেন কেন?
-
ওই, কি বলতেছো এগুলা?
=ঠিকি তো বলতেছি, আপনার এখন মানসিক চিকিৎসার প্রয়েজন?
-
কেন? আমি তো ঠিক আছি
=না, আপনি ঠিক নেই, দিশাহীন হয়েগেছেন, বেদিশা টাইপের!
-কিহহহ!
=হুম, আর আপনি পাগল হয়ে গেছেন । না না পাগলি হয়ে গেছেন । দিশাহীন পাগলি
-
দেখো, এখন কিন্তু আমি রেগে যাচ্ছি
=তা তো যাবেনই, পাগলদের পাগল বললে তারা রেগে যায়, বেদিশা কোথাকার?
-
এখন কিন্তু তোর মাথা ফাটিয়ে দিমু
=এটাতো স্বাভাবিক, পাগলরা যা ইচ্ছা তাই করে।আচ্ছা বেদিশা পাগলি বলেন তো, আপনিও কি অন্য পাগলদের মতো কামড়িয়ে দেন
-
ওই, দুর্জয়ের বাচ্চা কুদিশা তোরে আমি খাইছি রে....
= ওরে আল্লাহ, আপনিতো দেখছি অন্য পাগলদের থেকে এক ধাপ এগিয়ে । অন্যরা কামড়ে দেয় আর আপনি দেখছি খেয়ে ফেলেন ।
-
ইয়া মাবুদ! হুম, তোরে আমি মাইরা ফালামু!
=কই পাবেন আমারে? আমি তো কোনোদিন পাবনা যাবোনা?
-
আমি যামু মৌলভীবাজার, তারপর দেখিস কি করি?
=কি করবেন শুনি?
-
প্রথমে কুমড়োর মতো ফালা ফালা করে কাটমু তারপর বেগুনের মতো ভাজমু তারপর সস দিয়া খামু!
= কীরে দজ্জাল রে বাবা! আপনার কথাবার্তা একদম পাগলের সাথে মিলে যায় । আর আপনার আইডির নামও তো “বেদিশা পাগলি”সো আপনি একটা পাগলি । আপনারে নিয়া একটা গল্প লিখবো "পাগলি - The Mental" কেমন হবে?
-
যা শালা কুত্তা তোর সাথে কথা নাই
=আমার আরো কিছু বলার বাকি আছে
-
সয়তানের হাড্ডি, গরু, ছাগল, কুত্তা,কুলি, মাইমাল.........
বলেই অফলাইন হয়ে গেল বেদিশা পাগলি  নামের আইডি টা । কে হতে পারে এই মেয়ে । নাকি ফ্রেন্ড দের মধ্যে কেউ বোকা বানাচ্ছে । বুঝতে পারছিনাআইডির প্রোফাইলে ডুকে কিছুক্ষণ বুঝার চেষ্টা করলাম, আইডিটা ফেক না রিয়েল। দেখলাম গতকাল মাত্র আইডিটা খোলা হয়েছে। কিভাবে ডিসাইড করব, বুঝতে পারছি। মাথাটা ঘোলমেলে মনে হল।

আরেহ, আমার পরিচয়টায় তো দেওয়া হয়নি, আমি দুর্জয়১১ তে পড়ি । বাবা মার ১ম  সন্তান । আমার পরে দুইটা এবং আগে একটা আছে। তবে আমি বড় ছেলে । ফেবুতে একটু আধটু লেখালেখির চেষ্টা করি আর একটু বেশীই দুষ্টামী করি, এই আর কি!!
কে হতে পারে এই বেদিশা পাগলি? চিন্তা করছি। কিছু মাথায় ডুকছে না। হঠাৎ মনে হল, এই মেয়েটা ঐটা না কি যাকে ব্লক করেছিলাম? হতেও তো পারে, হ্যান্ড রাইটিং সেইম টু সেইম।

বিকাল বেলা মাঠে গেলাম । ফুটবলে কিছুটা সময় ব্যয় করে  সন্ধার সময় বাড়ি ফিরার পর আম্মু বলল ভাবি নাকি ডেকেছে । ভাবি টা আমার চাচাতো ভাইয়ের বউকি আর করা । গেলাম তার বাড়িতে ।
=ভাবি আমাকে ডেকেছো?
-
হ্যা, বসো মিস্টার দুর্জয়।
=বলো, কি হয়েছে?


-আমার ফোন দিয়ে নেটে যেতে পারছিনা, একটু দেখোতো?
ফোন নিয়ে অনেক টিপাটিপির পর সক্ষম হলাম ।
=ভাবি হয়ে গেছে
-
রেখে দেও,
=আচ্ছ্‌ আমি চলে গেলাম
-
আচ্ছা
বাড়িতে এসে পড়াশোনা শেষ করে খাওয়া দাওয়া করে ফোন নিয়ে ফেবুতে ঢুকলাম
দেখলাম, বেদিশা পাগলি মেসেজ দিয়ে রাখছে,"তখন আমার অনেক রাগ হয়ছিলো তাই উল্টাপাল্টা বলেছি, আমি সরি"
একটু অবাক হয়ে গেলাম । উল্টপাল্টা কথা বললাম আমি আর ও সরি বলছে! এমাজিং!  একটু খারাপ লাগলো । দেখলাম অনলাইনে আছে তাই মেসেজ দিলাম
=আমিও সরি।
-
এতক্ষনে আসার সময় হলো তোমার,
=হুহ
-
কতক্ষণ থেকে ওয়েট করতেছি?
=কেন?
-
বুঝোনা.?
=নাহ...
-দূর, কুদিশা।
=আশ্চর্য, আমি কেমতে বুঝব? এই, মাইন্ড ইউর লেংগুয়েজ! কুদিশা কী?
-
তুমি, এক্কেবারে কুদিশা!
=হুম (মুখ বন্ধ করে রাখছি)
-
তখন থেকে কি হু হু করতেছো? অন্য কিছু বলো
=আপনার বাপের নাম কি?
-
এসব বলতে বলিনি
=আচ্ছা আপনি আমাকে চিনেন?
-
হুমম
=ক্যামনে, আমিতো কখনো ওই পাগলদের এলাকাতে যাইনি?
-
তুমি আসনি তাই বলে আমি মৌলভীবাজার যাইনি নাকি?
=আব্বে, সত্যি?
-হ্যা, তোমার জন্য একটা সার প্রাইজ আছে,
=কি?
-
এখন বলবনা, কয়েকদিনের মধ্যেই পেয়ে যাবা
=হুহহ....
অফলাইনে চলে আসলাম । অনলাইনে থাকলে  পাগলীর সাথে পাগলের মতো বকবক করতে হবে । তাই চলে আসলাম । হাফ ছেড়ে বাচলাম বাবা!

পরদিন সকালে কলেজে গেলাম । প্রথমেই সালাম স্যারের সাথে দেখা হলো খুব ভালো তিনি । আমাদের পাড়াতেই থাকেন । উনার সাথে আমার খুব ভালো সম্পর্ক । মাথা টাক বলে সবাই উনাকে টাকলু বলে।
-
এই দুর্জয়, দাড়াও তোমাকে আমি খুব ভালো মনে করতাম......
=শুধু আপনি না,সবাই আমাকে খুব ভাল মনে করে, কারণ আমি গুড বয় ।
-
রাখো তোমার গুড বয়, আমার এই ধারনা কালকে সন্ধ্যার সময় ভুল প্রমানীত হয়েছে
=কেন স্যার? আমি কি কিছু করছি?
-কি করছো মানে, কি করনি সেটা বলো
=কি করেছি আমি?
-
কেন? ভুলে গেছো..?
=জি, মনে নেই। আপনি বলেন তো স্যার কি হয়েছে?

কালকে রাত ৯টার দিকে দেখলাম, তুমি ওই মোড়ে দাড়িয়ে আছো যেখানে বখাটে ছেলেরা সবসময় আড্ডা দেয়. আমি কণ্ঠস্বর শুনে বুঝলাম, তুমি-ই।
=চেহারা দেখেন নি?
-নাহ, আমার চশমাটা সাথে ছিল না, আর রাত তো তাই।

আমি তোমাকে জিজ্ঞেস করলাম,
-
কি ব্যাপার দুর্জয়, তুমি এখানে দাড়িয়ে কেন?
=তারপর
-
তারপর কি সেটাও আমাকে বলে দিতে হবে?
=না বললে জানবো কিভাবে?
-
তুমিই বলেছো আর এখন তুমিই জানোনা
=স্যার বলেন তো কি হয়েছে?
-
তুমি আমাকে বলেছো, গাঞ্জা খাবার লাইগা দাড়াইয়া আছি, খাবেন নাকি?
তারপর আমি বললাম, দুর্জয়, তোমাকে খুব ভালো ছেলে ভাবতাম, এখন?
তুমি বললে,
=এই টাকলু, তুই যাবি এখান থেকে নাকি পাশের ডোবাতে তোরে চুবামু?
আমি বললাম,
-তোর আব্বুকে না বলছি, তাহলে আমার নাম আব্দুস সালাম না!
তারপর তুমি আমার মাথা কালো কাপড় দিয়ে পেচিয়ে পাশের ডুবাতে ফেলে দিলা! ও ও ও হাচ্চু! সর্দি কাশি অইছে সে কারণে। তোমার নিস্তার নাই। তোমাকে আমি বুজামু আব্দুসসালাম কি জিনিস?
= স্যার, বিশ্বাস করেন স্যার, ওইটা আমি না।
-
এখন মশকরা করো, কত্ত বড় বেয়াদব!তোর বাপকে না বলছি তো আমার নাম আব্দুস সালাম না!
=স্যার বিশ্বাস করেন ওইটা আমি নাপ্লিজ স্যার বিলিভ মী।
-
আমার বিশ্বাষ করতে কষ্ট হচ্ছে বাট তুমি আমার ২ বছরের স্টুডেন্ট। আর তোমার য়েস আমি চিনব নাহ? এইটা কেমন কথা?দেখো দুর্জয়, ভালো হতে পয়সা লাগেনা এখনো সময় আছে ভালো হয়ে যাও ।,

স্যারকে যতই বলি আমি না, স্যার ততবেশী আমাকেই অপরাধী বলছেন। আমি বুঝেছি কাজটা কার!
নাহহ, হালা হারামিটার সাহস অনেক বেড়ে গেছে । এর একটা বিহীত করা লাগবে । না হলে সামনে অনেক বিপদ আসবে, আমি শিউর..... (মনে মনে)


সন্ধ্যার দিকে বাড়িতে আসলাম। মুড অফ। স্যারের আজাইরা কথা শোনে খুব খারাপ লাগছে। আমি করি নি তবুও আমার উপর দুষ! হাউ স্ট্রেঞ্জ!!
আমার ক্লোজ ফ্রেন্ড সাব্বির। আমাদের পাশেই তাদের বাসা। আমাদের আর ওর ফেমেলির মাঝে খুব ভাব, যেন আমরা আপন। সাব্বাকে ফোন দিলাম আমাদের বাসায় আসতে। ১০/পনের মিনিট পর সাব্বা আসল।
= এই, হালা হারামী, তুই আমাদের স্যারকে কী বলেছিস?
-কী আর বলব! টাকলু বলেছি।
=এই হালা, জানস না, স্যার এখন আমাকে দুষছেন?
-তোকে দুষলে আমার কী? আমি কী বলে দিসি?
=তুই বলিস নি বাট ভয়েসটাই তো সব প্রবলেমের মুল। তুই তোর ভয়েস চ্যাঞ্জ কর। নাইলে কিন্তু তোর বারোটা বাজাই দিমু।
-নাহ, আমি কেমতে আমার ভয়েস চ্যাঞ্জ করবআল্লাহ দিলেন কেন? জিজ্ঞেস কর। যাহ পারিস কর, আমার কিচ্ছু আসে যায় না।
=হালা হারামী আমার জীবনটা তেজ পাতা করে দিতাছস!তোরে আমি ধরে দিবানি!
-হালা বেশি বকবক করিস না। নাইলে কিন্তু আন্টিকে বলে দিবাম সব।
=কী বল্বে,শুনি?
-বলব, তুই দুর্জয়ার সাথে প্রেম করিস। তখন বুঝবি মাইর কারে কয়!
=হালা তুই জানলে কেমতে?
-জানব না,তোর টেক্সট পড়েছি।
=ওকে, বাদ দে এসব। আয়, গল্প করি।
-আচ্ছা, এখন বাদ দিবাম নাহ! ভালই তো ভাব ধরস! আচ্ছা বাদ।
 [Bangla Short Story] বেদিশা পাগলি

সাব্বির যাকে আমি সাব্বা ডাকি। আমাদের দুই জনের কণ্ঠস্বর সেইম।কোন পার্থক্য নেই। এই সাব্বার কারণে অনেক সময় আমি বিপদে পড়ি। আমাদের কলেজের মেয়েদেরকে ফোন দিয়ে ডিস্ট্রাব করে,পরের দিন মেয়েরা আমার উপর ঝাল মেটায়।কিছু বলতেও পারি না আবার সহ্য করতেও পারি না।সাব্বাটা বিষণ রাগী আর বদ মেজাজী। এই তো সেদিন একটি ছেলের সাথে আমার ঝগরা হল, সেই কথা সাব্বার কানে যেতেই অই ছেলেকে মেরে হাত ভেঙ্গে দিসে। কিন্তু হালায় রাতের আধারে এই সব পাগলামী করে যাতে ভয়েস শোনে আমি ফেসে যাই। যাই হঊক, কিছুক্ষণ গল্প করার পর সাব্বা চলে গেলো। রাত প্রায় ৮.৩০ এর দিকে ফেইসবুকে ডুকলাম। বেদিশা পাগলি মেসেজ দিয়ে রাখছে, “কুদিশা, কই তুমি, আর কতক্ষণ ওয়েট করব? দূর, শালা আসছিস না কেনো?”
দেখলাম এক্টিভ আসে তাই মেসেজ দিলাম।
=দুলাভাই, কার জন্য অপেক্ষা করছেন?
-দুলা ভাই কে গো?
=আপনি-ই তো বললেন শালা।তাই মনে করছি কোন দুলা ভাই হতে পারে!তাই
-হায় রে কুদিশা, তোর নেকামি বাদ দে। কেমন আছো বল।
= তুই,তুমি!!! বুঝলাম না রে। আসলেই ইউ তার সিরা।
-ঐ, তার সিরা ডাকবা না। নইলে কিন্তু....
=নইলে কী? খায়া ফেলবা?
-নাহ, তোর আব্বুর কাছে ফোন দিয়ে বিচার চাইব।
=মেন্টাল কী বলে! আমি কী করলাম আর কী-ইবা বিচার দিবেন?
-তোর আব্বুকে বলব, আমি আপনার বউ মা। আপনার ছেলে আমাকে বিয়ে করে এখন গ্রহন করছে না।
=শালী কী কস! আমি কবে কখন কাকে বিয়ে করলাম? মাথা পুরাই গেছে রে.........ভাগ শালি......
বলে ব্লক মেরে নিউজ ফিড ব্রাউজিং করতে লাগলাম। আমার নিজেরই বিশ্বাস হচ্ছে না, একটি মেয়ে এমন হতে পারে, জানা নেই শোনা নেই,এক্কেরে বউ হয়ে গেলো! আসলে পাগলের গোষ্টি মনে হয়।মনে মনে ভয় হতে লাগল, যদি আব্বুকে উলটা পালটা কোন কিছু বলে দেয়, তাহলে আমার মান সম্মান সব শেষ, সাথে আব্বুর মাইর তো আছেই। কিছুক্ষণ পর একটি ছেলের নামের আইডি থেকে মেসেজ আসল, “হায় বন্ধু”
=হেল্ল বন্ধু। কেমন আছেন?
-এই তো আছি।
=কী করছেন?
-বরের সাথে কথা বলছি।
“বর’ শব্দটি খেয়াল করি নি আমি। প্রতিউত্তরে বললাম,
=ভালো,
-এই শালা, কুদিশা, কুত্তা,গরু,ছাগল, বাদাইম্মা, মাইমাল!
= এই মিয়া, কী আজে বাজে বলছেন! এইগুলা কী!
-এইগুলা তোর বাপের মাথা!
=মানে?
-মানে তুই আমাকে ব্লক দিলি কেন? হেই কুদিশা!
=দূর, সব পাগল হইগেছে।ফেবুর সব্বাইরে পাবনা পাঠানো দরকার। কী বলেন ভাই?
-হারামী কুত্তা, আমি তোর ভাই না, আমি তোর বউ দুর্জয়া!ব্লক মারলি কেন?
=খাইছে রে.. আবার বেদিশা পাগলির পাল্লায় পড়লাম। হিজরার মত ছেলের আইডিতে কথা বলছেন কেন মিস বেদিশা?
-শালা, বুঝবি রে। তোর আব্বুকে এখনই ফোন দিচ্ছি।
=বাহ, দাও, নাম্বার পাবি কই।
-নাম্বার!
= হুম,নাম্বার ছাড়া তো ফোন দিতে পারবেন না!
-কুদিশা! নাম্বার আমার কাছে আছে! ফোন দিবাম??
=হাছা কইবার লাগছ? বলেন তো নাম্বার?
-০১৭৩৫৩৯৭৬...
=ইয়া বগমান!
-দূর, বগমান না, বগবান!
=ইন্না লিল্লাহি! আজিব কারেক্টার মাইরি! আপনি আব্বুর নাম্বার ফেলেন কই!?
-ফোন দিব?
আমার অবস্থা পুরা কাহিল। এই পাগলিটায় আব্বুর নাম্বার ফেলো কোথায়? যে টাইপের মেয়ে না জানি কি বলে ফেলবে আব্বুকে।
=প্লিজ নাহ। ফোন দিবেন না প্লিজ। আব্বু এই সব জানলে আমারে একদম মাইরা ফেলব!
-অকে, ফোন দিবাম না তবে শর্ত আছে!
=কি শর্ত?
-বর্তমানে যে অবস্থায় আছো অই অবস্থায় একটা তোমার একটা পিক সেন্ড করো।
=সরি, পসিবল নাহ।
-কী-ই!
=জীহ!
-ওকে, ফোন দিচ্ছি!
=প্লিজ, ফোন দিবেন না।
-তাইলে পিক দাও।
=একচুয়েলি আমার বর্তমান কন্ডিশনে পিক দেওয়া সম্ভব নাহ।
-এই, এখনই দিতে হবে। নয়তো তুই গেলি রে কুদিশা! ভাব না মেরে পিক সেন্ড কর!
=আসলে...... ইয়ে..... মানে......
-ইয়ে মানে টানে বুঝি নাহ। পিক দে।
এই পাগলীকে কীভাবে যে বুঝাবো আমি এখন বাথরুমে! বাথরুমের পিক কিভাবে সেন্ড করব। শালী তোকে পাই হাতের কাছে, ফাযলামী কত প্রকার শিখাবো!
-হেই, দিবি না?? ফোন দিবাম।
=আপনি কিন্তু আমাকে ব্লাকমেইল করছেন?
-হতে পারে। কুছ নেহি ইয়ার। মুজে পিক চাহি হে।
=আসলে আমি এখন বাথরুমে। কীভাবে পিক দেব বলেন??
-হি হি হি। শালা খবিস। বাথরুমে গিয়ে ফেবু চালাস! হুম, বাথরুমের পিকই দিতে হবে। এক মিনিট টাইম। নয়তো ডাইরেক্ট একশন!

আর পারলাম না। শালী নাছোড়বান্ধা। শেষতক ২/১ টা পিক তুলে পাঠালাম। লজ্জ্বায় আমার মাথা হেট। কী করব কিছুই বুঝতেছি নাহ। এমন এগগুয়ে মেয়ে আমি আমার জীবনেও দেখি নি।
=হেই, হি হি হি! খুব কিউট!
-আপনি খুশি তো!
=খুউব খুশি!
-আব্বুকে ফোন দিবেন??
=নাহ, দিব না।
-অকে বায়.......
=এই শোন।
লাস্ট মেসেজ সীন না করেই ডাটা অফ করে দিলাম। খুব রাগ হচ্ছে। নিজেকে খুব ছোট মনে হচ্ছে। একটি মেয়ের কাছে হেরে গেলাম! হাউ ইট পসিবল! আমি পুরুষ না হিজড়া!? দূর, আর ফেইসবুকই চালাব না।একাউন্ট ডিএক্টিবেট করে দিলাম।

রাত প্রায় ১ টা। ঘুম আসছে না। শুধু মাথার মাঝে কিছুক্ষন আগের ঘঠনা ঘোরপাক খাচ্ছে। সাব্বাকে ফোন দিলাম বাট ফোন ধরছে নাহ। কী-ই যে করি!!

৩দিন পর। কলেজে যাচ্ছি। পথে সাব্বিরের সাথে দেখা।
=দুস সাব্বা, কেমন আছিস? কলেজে যাবি না কি?
-নারে দুস।তোদের কলেজে যাব!?(আমি মৌলভীবাজার গভটে পড়ি আর সাব্বা শ্রীমঙ্গল গভটে।)
=হোয়াট! তোর কলেজ রেখে আমার কলেজে কী!?
-হুম, কাজ আছে! তোর প্রবলেম! আর তোর আইডি পাচ্ছি না ? ডিজেবল হয়েগেছে না কি?
=নাহ, আমার তো কোন প্রবলেম না। নারে ডিএক্টিবেট করে রাখছি।
-কেনো? কোন সমস্যা??
=নাহ, এমনি।
-অহ,তাইলে চল।
=হুম, চল।
সালাম আই মিন ঠাকলু স্যারের ক্লাস চলছে। ক্লাসে ডুকেই স্যারের কুনজরে পড়লাম।
-কীরে মিস্টার পারফেক্ট বয় দুর্জয়!?
=জীহ!
-গাইঞ্জা খাইয়া আইস!
=স্যার! (স্যারের প্রতিশোধের খপ্পড়ে)
=খাইস বাবা?
-সরি স্যার!
ক্লাসের সবাই হাসছে।খুব মজা নিচ্ছে। তড়িগড়ি ৪র্থ ব্রেঞ্ছে বসে পড়লাম।হঠাৎ ১ম ব্রেঞ্ছে চোখ যেতেই বিকট শক খেলাম। এত্ত সুন্দর স্মার্ট মেয়ে আমি জীবনেও দেখি নি।যেমন ফিগার তেমন স্মার্ট। আল্লাহ যেনো নিজ হাতে তাকে তৈরী করেছেন। অপলক নয়নে চেয়ে থাকলাম, ঠাকলু স্যারের ডাকে মোহ ভঙ্গ হল।
-দুর্জয় বলো তো ‘বাংলা শব্দে কোন সময় ‘ন’ আর কোন সময় ‘ণ’ হবে?
=জীহ, অহ, বলছি স্যার। যেই সময় স্যার,যখন স্যার! স্যার! ইয়ে.... স্যার... মানে...
-কী স্যার ট্যার বলছ!? পড়ার সময় আন্ডা আর গাইঞ্জা খাওয়ার সময় তো পারফেক্ট! বস।

ক্লাসের সবাই আমাকে উপহাস করে হাসছে। কী করব এই চ্যাপ্টার পড়ে আসি নি। সারা ক্লাসই অফ মোডে শেষ হলো। ক্যান্টিনে এসে দেখলাম সাব্বা আর ওই মেয়েটা কথা বলছে। বুঝলাম, হালা সাব্বা কিল্লাই আমার কলেজে আজ আসলো। ভাব মারত সুন্দরী মেয়ের সাথে।
আমাকে দেখে সাব্বা ডাক দিল, তাদের কাছে গেলাম। ‘হায় গাইস’ বলে তাদের পাশে বসলাম।
প্রথমে মেয়েটি আমাকে জিজ্ঞেস করল,
-আপনি দুর্জয় না?
=জীহ,
-আমি আরিশা।
=অহ নাইস নেইম। আপনি আমাকে চিনেন?
-হুম, প্রিন্সিপাল স্যারের কাছে আপনার খুব তারিফ শোনেছি।
=অহ তাই! আপনার বাসা?
-হুম, আসল বাড়ী পাবনাবোনের বাড়ী মোস্তফাপুর। এখানে থেকে পড়ালেখা করি।
=কী-ই? পাবনা?
-হুম,
বেদিশা পাগলির কথা মনে পড়ল। মনে মনে বললাম, এইটা আবার পাগল না হয়ে যায়!
-আপনি না খুব স্মার্ট!!
=তাই! থ্যাংস! আপনিও খুব কিউট!
-ধন্যবাদ।
-শুধু কী তোমরাই গল্প করবে? (সাব্বা)
=অহহ জী বস, আপনি করেন। উঠি এবার। (আমি)
-ওকে, যাই। (মেয়ে)
-অকে, চল দুস, (সাব্বা)
আমি আর সাব্বা বাড়ীর পথ ধরলাম।
=কী রে? এইটাই কী তোর কাজ?
-হুম, খুব স্মার্ট না দুস?
=জি হা, খুব সুন্দর। আমি তো ফিদা দুস।
-কীই, দুস, আমার লাভার, হাত বাড়াস না প্লিজ।
=শালা, তোর হল কেমতে? যে পঠাতে পারবে তার।
-ওকে ডান।
কলেজ থেকে ফিরে বাসায় আসলাম। বিকালে মাঠে গিয়ে কিছুক্ষণ আড্ডা-খেলে ইউ টার্ণ বাসার দিকে।সন্ধ্যার পর পড়তে বসলাম। পড়াতে মন বসছে না। শুধু কলেজের ওই সুন্দরীর কথা মনে পড়ছে। তার মায়াবি চাহনী চোখের সামনে ভেসে উঠছে। কী সুন্দর! কী অপরুপ! কোন কিছুতেই কমতি নেই যেনো। তার মুচকি হাসিটা একঝাটকায় দিলের ভালোবাসার দোয়ার খোলে দিল। সে হাসলে গালে টুল পড়ে, খুব মায়াবী লাগে তখন। হায় রে আল্লাহ! আমি তো ফিদা, ওই রুপসীর প্রেমে! ভাবনায় ছেদ পড়ল ফোনের রিংটনে।
‘ঘুম পাড়ানি বন্ধু তুমি কোন আসমানের তারা..........’’
=আসসালামু আলাইকুম,
ওপাশ থেকে মেয়েলী কন্ঠ
-ওয়ালাইকুমুসসালাম।
=জীহ, কে বলছেন?
-এই, কুদিশা, বাদাইম্মা, শালা আইডি ডিজেবল করছস কেন?
=জীহ, কে আপনি? গালি দিচ্ছেন কেন?
-শালা, কে আমি? নাহ, যাহ দেখিস, তোকে যদি আমি টুকরা টুকরা করে জলে না ভাসাই তাইলে আমি দুর্যয়া না?
কীহ! ওই পাগলী! হায় আল্লাহ! আমায় রক্ষা কর! এইটা আমার নাম্বার কই পাইল! ইয়া মাবুদ! শেষ আমি তো গেলাম!
=জীহ! আপনি!
-হুম, চিনতে পারসো?
=হুম, চিনেছি।
-হুম,টুম, বন্ধ কর। বল, কী জন্যে আইডি ডিএক্টিভ করে রাখছস?
=আমার আইডি, সো যা ইচ্ছা তা করব! আপনার সমস্যা কী?
-আমার সমস্যা কী! নাহ! দাড়া, তোর বাপকে ফোন দিয়ে জিজ্ঞেস করছি!
=প্লিজ নাহ, আব্বুকে ফোন দিবেন না প্লিজ
-অকে, যা বলি ঠিকটাক উত্তর দে!
=হুম।
-আইডি ডিজেবল করে রাখছিস কেন?
=সামনে এক্সাম তো তাই! এক্সামে ভালো রেজাল্ট করতে হবে!
-অহ, তাই!
=হুম,
-যে ছেলেটা ‘ন’ আর ‘ণ’ কখন হয় ওইটা পারে না, সে কেমন রেজাল্ট করবে সবারই জানা! কী ভালো স্টুডেন্ট রে! কুদিশা কোথাকার!
=মানে! আপনি জানলেন কীভাবে? (আমি হতভম্ব মেয়েটার কথা শোনে! কীভাবে কলেজের খবর অই মেয়ে জানল? আল্লাহ জানেন।)
-যেভাবে জানার জেনেছি! শোন, এখনো কী অই চ্যাপ্টার পড় নি?
=জী নাহ, পড়ি নি।
-পড়বে কিভাবে? সারা সন্ধ্যা তো অই মেয়ের চিন্তায় কাঠাচ্ছ! দেখলে তো মনে হয় ভাজা মাছ উল্টিয়ে খেতে পারে না! আর কী রসিক গল্প!
(আমি কিছুই বুঝতে পারছি না। এসব কী হচ্ছে আমার সাথে! ওই মেয়ের সাথে যে আমি কথা বললাম, এই মেয়ে জানল কীভাবে? ভুতড়ে কোন কান্ড নাকি? কী করব এখন আমি।দুর!)
-এই যে!
=জীহ।
-মেয়েটার প্রেমে পড়ছেন?
(কী রে বাবা! একবার তুই,আরেকবার তুমি, এখন ডাইরেক্ট আপনি! এই মেয়ের কারেক্টার কী!)
=জীনাহ, এ সব কিচ্ছু নাহ।
-সত্যি বলছেন?
=জীহ।
-শালা কুদিশা শোন, আর যদি কোনদিন অই মেয়ের ছায়া মাড়াতে দেখছি তাইলে কিন্তু তোকে এমন শিক্ষা দিব জীবনেও ভুলতে পারবি না। হাত-পা ভেঙ্গে দিব।তুই শুধু আমার, আর কারো হবি না। ঠিক আছে?
=জীহ।
-শুধু জীহ জীহ কী? কথা বল? আচ্ছা শোন, কলেজের চ্যাপ্টারটা আমি তুমাকে বুঝাচ্ছি। মন দিয়ে শোন, যখন ‘ন’ এর পুর্বে ‘ষ’ ও ‘র’ হয় তখন ‘ন’টা ‘ণ’ হয়। যেমনঃ কারণ, বিশেষণ। ঠিক আছে?
=হুম,বুঝলাম। আচ্ছা আপনি আসলে কে? কী চান আমার কাছে? আমার এত্তসব ইনফরমাশন কিভাবে জানলেন? আর আমার জীবনটা অতিষ্ঠ করে তুলছেন কেন?
-হেই, এত্তসব বলতে পারব না। আমার যা ইচ্ছা তাই করব। শোন, তোমার আইডি এখনই এক্টিভ করবা ঠিক আছে? আর আমার নাম্বার ব্লাক লিস্টে রাখার মত বুকামী করবে না। অন্যথায় কী করব জানই তো?
=হুম।
-এই তো গুড বয়! ভালো থেকো সোনা। বায়......

ফোন কেঠে দিয়ে বিছানায় বসে আছি। দিনদিন ওই মেয়ের কারণে জীবনটা অতিষ্ঠ হয়ে যাচ্ছে! কী কারণে মেয়েটা আমাকে এত্ত কষ্ট দিচ্ছে? কী চায় ও?? আমার মৃত্যু? সাব্বাকে ফোন দিলাম, শালা ফোন ধরছে না। আমার কষ্টের বন্ধু ও। ওর সাথে এ সব শেয়ার করা দরকার। যে কোন পথ তো ঠিকই বের করবে। এমন চিন্তার মাঝেও কলেজের মেয়েটার কথা মনে পড়ল। টুল পড়া হাসি, এলোমেলো চুল, উফফ সো বিউটিফুল!

       অনেকদিন হলো ভাবিদের বাসায় যাওয়া হচ্ছে না। সন্ধ্যার দিকে গেলাম। সাথে সাব্বির। উদ্দেশ্য কিছু টাইম পাস! দরজায় কলিং বেল টিপে ঘরে ডুকেই ভাবির মিষ্টি স্বর,
=কী হে মিস্টার দুর্জয় সাহেব! ইদানিং তো আপনার দেখা পাওয়া যায় না। কারণ কী!?
-কী যে বল ভাবি, আসতে ইচ্ছে করে কিন্তু জানই তো সামনে এক্সাম!
সাব্বাঃ কী এক্সাম সবাই জানে, আসলে ভাবি ও প্রেমে পড়েছে!
=কীরে দুর্জয়, জল এতদুর কবে গড়িয়েছে!
-নাহ, ভাবি এই সব কিছু না।
সাব্বাঃ মিথ্যা বলিস কেন?
-শালা চুপ কর হারামজাদা! অসব কিছু না ভাবি। শালায় মিথ্যা বলছে। আমি আবার কার প্রেমে পরব!
=ওকে ওকে যা বুঝার বুঝে গেছি! শোন দুর্জয়, আমার বান্ধবীর বোন, গতকাল তোমাদের কলেজে এডমিট হয়েছে, দেখে রাখিস!
-হুম, রাখব ভাবি। নাম কী ওর?
=আরিশা!
-ইয়া আল্লাহ! আরিশা, পাবনা আসল বাড়ী তাই না।
=হুম, তুই চিনিস?
সাব্বাঃ শুধু চিনে না ভাবি! ওর উপরেই ক্রাস খাইছে!
-প্লিজ শালা বন্ধ কর এ সব!
=আচ্ছা, আচ্ছা, তাহলে জল এতদুর গড়িয়েছে। দাড়া,
(ভাবি আরিশা বলে ডাক দিলেন। ঘর থেকে আমার সেই স্বপ্নের রাণী বের হলো! আমি তো পুরাই বেহুশ। মেয়েটা এখানে কী করছে! আমার খুশি কে দেখে! কিন্তু তাদের সামনে কিছু না বুঝার ভান করে রইলাম।)


আরিশা আমাদের কাছে আসল। সুফায় বসে খুব গল্প করছি আমরা। মাঝে মাঝে আরিশা হাসছে,ওর গালে টুল পড়ছে। আমি মুগ্ধনয়নে থাকিয়ে আছি। এলোমেলো চুল ছড়িয়ে আছে,দেখতে অপুর্ব লাগছে। আমি তো ফিদা.........
প্রায় ৩০/৪০ মিনিট আরিশা আমাদের সাথে ছিল। রাত হয়ে যাচ্ছে তাই ভাবির কাছ থেকে বিদায় নিয়ে বাড়ীর পথ ধরলাম। আসার পথে সাব্বির আমাকে বলল,
সাব্বাঃ দুস, মেয়েটা খুব কিউট তাই না!?
আমিঃ ইয়েস দুস, আসলেই ও অপুর্ব!
সাব্বাঃ প্রপোজ করে ফেল।
আমীঃ হুম, এর আগে বুঝতে হবে ও আমাকে চায় কি না? তারপর দেখা যাবে!
সাব্বাঃ নাম্বার আনছিস!
আমিঃ হুম।
সাব্বাঃ শালা, তুই দেখি স্মার্ট! কীভাবে আনলি? আমি তো দেখলাম না।
আমিঃ দুর্জয় আমি। নট ইম্পসিবল এনিথিং।
সাব্বাঃ আচ্ছা, ওই মেয়ের কী অবস্থা?
আমিঃ কোনটা?
সাব্বাঃ ওই যে, পাবনা বাড়ী! তোকে ব্লাক মেইল করে ওইটা!
আমিঃ অহহো, অইটা, জানি না দুস, এই সাবজেক্ট নিয়ে খুব টেনশনে আছি। শালি আধা জল খেয়ে আমার পিছে পড়েছে। আচ্ছা বলত সে আমার এত্ত ইনফরমেশন কিভাবে কালেক্ট করে!
সাব্বাঃ জানি না রে দুস। তুই মরছিস! আমি যাই।
আমিঃ অকে যাহ।


বিছানায় শোয়ে শোয়ে আরিশার কথা ভাবছি । কীভাবে আরিশাকে প্রেমের জালে আটকানো যায় সেই ছঁক আকছি। আমার আন্টিকে ফোন দিলাম, কিভাবে পঠানো যায় এই বিষয়ে অনেক সময় কথা হল আন্টির সাথে। কথার মাঝে কার জানি মিসকল আসল! আন্টির সাথে কথা বলার পর আমিও ইনকামিং নাম্বারে মিসকল দিলাম। কারণ ব্যালেন্স শেষ। কয়েক মিনিট পর ঐ নাম্বার থেকে ফোন ঘুরালো,
-কে বলছেন?
=হায়রে ফইকরা! শেষতক মিসকল দেওয়া কবে শিখলা?
-আপনি!? (আজ কপালে দুঃখ আছে)
=জিওয়। কোন সন্দেহ?
-জিনাহ, কেমন আছেন?
=হুম ভালো। এতক্ষণ কার সাথে কথা বলছিলা?
-এই তো, আমার বন্ধুর সাথে!
=এই কুদিশা, আবার মিথ্যা কথা বলছিস!
-বিলিভ মি। সত্যি বলছি!
=বুইজ্জালাইছি, তুই এমনিতে সত্যি বলবি না, তোর আব্বুকে বলব?
-নাহ,প্লিজ। আন্টির সাথে কথা বলছিলাম।
=অহ গুড।আচ্ছা সন্ধ্যায় কই ছিলা তুমি?
-কই আবার! আমার বাসায়।
=ঐ আবার মিথ্যা বলছিস?
-সত্যি। বিলিভ মি।
=তোকে কী বিলিভ করব! আমি বলছি শোন, তুই আজ সন্ধ্যায় তোর ভাবির বাসায় অই মেয়ের সাথে ডেটিং-এ ছিলি! তাই নাহ!??
(আমি কী বলব! কিছুই মাথায় আসছে নাহ। এত্ত কথা কিভাবে জানল! আল্লাহ মালুম, এখন কী হবে)
-জিহ!
=জিহ কী! আমি সত্যি বলছি না মিথ্যা বল।
-মানে... সত্যি।
=সত্যি! তোকে না বলছিলাম, ঐ মেয়ের ছায়া মাড়াবি না।তাইলে কেন ওই মেয়ের সাথে এত্ত সময় কাটালি? তুই জানস না, তুই শুধু আমার। অন্য কারো হবি নাআমার বাংলা কথা কি তো কানে যায় নাহ। দাড়া, তোকে এমন শিক্ষা দিব, জীবনেও আর কোন মেয়ের সাথে কথা বলবি না।
-সরি! আর এমন হবে নাহ।
=কুদিশা, আপনাকে আমি এমনিতেই ছাড়ছি না। বায়......
-এই শোনুন, প্লিজ এমন করবেন না।
জবাব না দিয়েই ফোন কেঠে দিল ঐ বেদিশা পাগলিটি। বড্ড টেনশনে আছি। না জানি কি বলে আব্বুকে। আমার এমনিতেই খুব ভয় করে আব্বুকে। আমাদের পরিবারের সবাই আব্বুকে বিষণ ভয় করে। ছোট বেলা থেকেই আব্বুকে ভয় করতাম। আজ পর্যন্ত আব্বুর সামনে চোখ তুলে কথা বলার সাহস হয়নি।


কিছুক্ষণপর আম্মু আমার শোবার রুমে আসলেন। খুব উদ্ধিগ্ন। আমাকে এসে বললেন,
আম্মুঃ দুর্জয়, কী হয়েছে রে?
আমিঃ কই, কিছু না তো!
আম্মুঃ তাইলে তোর আব্বু তোর উপরে ক্ষেপে আছে কেন?
আমিঃ কেন? আমি তো কিছু করি নি!
আম্মুঃ করিস নিহ! তোর আব্বু তোকে ডাকছে, গিয়ে দেখ কী অবস্থা!


আমি যা বুঝার বুঝে গেছি। বেদিশা-ই কিছু বলেছে আব্বুকে। আল্লাহ জানেন আজ কপালে কী আছে। ভয়ে ভয়ে আব্বুর রুমে গেলাম। ডুকতেই বজ্রপাত!
আব্বুঃ এই, তোকে এই জন্যই কী লেখাপড়া করাচ্ছি! বেয়াদব ছেলে। কলেজে গিয়ে কী করিস। তোর নামে এত্ত নালিশ কেন? পড়া লেখার নামে মাতব্বরি করিস! হেহ, পড়ার নামে তো আন্ডা, আর কী স্টাইল! হেই শোন, তোকে যদি আর কোন দিন এই সব কাজে পাওয়া যায় তাইলে কেটে টুকরা টুকরা করে গাঙ্গে বাসাইদিবাম। শোন, হয় ভালো মত পড় , নয়তো পাশের দোকানে কাজ কর। আর যদি কোন দিন এমন শোনছি তাহলে তোর পড়া লেখা বাদ, বলে দিলাম।
আমিঃ আব্বু.... আমি তো কিছুই করি নি।
আব্বুঃ আবার আমার মুখের উপর কথা............
বলেই আব্বু আমাকে মারতে লাগলেন। আম্মু এসে এ যাত্রায় কিছুটা রক্ষা করলেন। মাথা গরম আমার। কাঁপতে কাঁপতে রুমে এসে দরজা বন্ধ করে রইলাম।
নিজের উপর খুব ঘৃণা হচ্ছে। একটি মেয়ে আমাকে এত্ত কষ্ট দিচ্ছে! ভাবতেই অবাক লাগে। যাইহউক বেদিশা পাগলির চৌদ্দগোষ্টি উদ্ধার করে ঘুমুতে গেলাম। ফোন হাতে নিয়ে দেখি ছোট্ট একটা টেক্সট,
জাস্ট ট্রেইলার, ফুল একশন এখনো বাকি


রাগে শিরা কাঁপতে লাগল। ইচ্ছে করছে মেয়েটাকে জ্যান্ত পুতে দেই। মোবাইলে ব্যালেন্স ছিলো না, সাব্বার মাধ্যমে মোবাইলে মিনিট আনলাম। ফোন দিলাম বেদিশাকে।
আমিঃ এই তুই কি চাস?
বেদিশাঃ হাসছে......
-এই শালির বেদিশা কুত্তি, হাসচিস কেন?
=ঐ মুখ সামলিয়ে কথা বল।
-অই তোর সাথে কেনো রে মুখ সামলাব! তুই আমার জীবনটা অতিষ্ট করে তুলছিস! বল তুই কী চাস? কেনো তুই আমার পিছে পড়েছিস?
=আমি তোকে চাই!
-এই পাগলি, মেন্টাল, আমি কী এত্ত সুজা যে চাইলেই পাবি! শোন তুই জীবনেও আমাকে পাবি না। তোর মত বেয়াদব মেয়ে আমি আমার বাপের জন্মেও দেখিনি।
=ওই, অনেক বলেছিস! তুই কেমন ভদ্র রে! শোন, তুই জাস্ট আমার সো তোকে পাওয়ার জন্য যা ইচ্ছা তাই করব।
-বাব্বাহ, রাক্ষসী রাণী। বলা সহজ বাট করে দেখানো খুব কঠিন। আজ পর্যন্ত তো আমি তোকে দেখিনি। তাহলে বল কিভাবে তুই আমাকে পাবি? শোন আমি আরিশাকে ভালোবাসি সো তাকেই বিয়ে করব। তুই যদি আমাদের মাঝে বাধা হয়ে দাড়াস তাইলে জ্যান্ত পুতে দেব শালি।
=সাব্বাস, হেই কুদিশা আমি কী হাতের মুয়া যে যা ইচ্ছা তাই করবি! শোন তুই আমার সো মাইন্ড ইট।
-আচ্ছা দেখা যাবে।
=হেল মিস্টার, এত্ত গলা বড় কইরেন না। আপনার আব্বুর নাম্বার এখনো আমার কাছে। জাস্ট তো ট্রেইলার দেখলেন, ফুল একশন এখনো বাকী। চাইলেই দেখতে পারেন!?
-যাহ ভাগ, যা পারিস কর। আমার কিচ্ছু আসে যায় নাহ!
=সত্যি বলব!?
-আরে বাধা দিচ্ছে কে?
=ওকে ফোন দিচ্ছি......... বায়.........


আবার ব্লাকমেইল করছে শালি। আল্লাহ জানেন এখন আবার কী বলবে! আব্বুকে যদি চেতাইদেয় তাইলে আমার ১২টা বেজে যাবে। মার তো খাবই সাথে বোনাস হিসেবে দোকানে চাকরী। নারে বাব্বাহ, প্রয়োজন নাহ।
-এই শুনুন প্লিজ। আর আমাকে যন্ত্রণা দিবেন না প্লিজ।
=হুম, যাইহোক কুকুরের লেজ সোজা হয়েছে। ওকে ফোন দিব না। তবে শর্ত আছে।
-কি শর্ত?
=কাল আমার সাথে দেখা করতে হবে?
-বাহ, পাবনা গিয়ে আপনার সাথে দেখা করব?
=জিনাহ, আপনার এত্ত কষ্ট করতে হবে না। কাল পৌরসভায় আমার সাথে মিট করবে?ঠিক আছে?
-মানে টা কি? পাবনা থেকে মৌলভীবাজার!? কী বলছেন এসব?
=সময় হলে বুঝতে পারবা। কাল দুপুরে। বায়........


ফোন কেটে দিল। আজিব এক কারেক্টার! কোন সময় কী বলে কী করে হয়তো নিজেও জানে না। এমন মেয়ের পাল্লায় পড়ে লাইফ বরবাদ। আল্লাহ জানেন আগামী কাল ভাগ্যে কী অপেক্ষা করছে।

ওয়েট ফর নেক্সট পার্ট........................





Post a Comment

0 Comments